বিমান বন্দরের থার্ড টার্মিনালে অপারেশন ও মেইনটেনেন্স প্রকল্পে জাপান-বাংলাদেশ

Spread the love

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকাজ জোরেশোরেই এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পটি শেষ হলে পুরো বিমানবন্দরই পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (সিএএবি); জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (এমএলআইটি), মিতসুবিশি করপোরেশন এবং পিপিপি অথরিটির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণমূলক এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়- পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে পুলিশ, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সের দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তিভুক্ত কোম্পানি এক ও দুই নম্বর টার্মিনাল এবং তিন নম্বর টার্মিনালের আশপাশের উন্নয়নের দায়িত্বে থাকবে; যার মধ্যে বর্ধিতকরণ, পরিচালনা ও বিমানবন্দরের সুবিধা বিদ্যমান।

সভায় ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় তুলে ধরা হয় ল্যান্ডিং চার্জ, যাত্রী সুবিধা চার্জ, ডিউটি ফি আয়, কমিশন, হোটেল, অফিস, বিজ্ঞাপন বাবদ ফি ও কারপার্কিং থেকে আয় বাংলাদেশ সরকার ও কোম্পানির মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ভাগ হবে। আয়ের একটি অংশ বিমানবন্দর পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্য সেবা খাতে ব্যয় হবে।

জিটুজি ভিত্তিতে পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত পলিসি ও স্বাক্ষরিত সহযোগিতা স্মারকের আওতায় জাপানের বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (এমএলআইটি) যৌথ উদ্যোগে বুধবার সকাল ১১টার দিকে অনলাইন ওয়েবিনারের মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান চতুর্থ যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফরম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সভায় উপস্থাপনের জন্য নতুন প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে জুম অ্যাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে এক বৈঠকে এমএলআইটির এয়ারপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের পরিচালক মোরি তার প্রস্তাবে বলেন, মিতসুবিশির ১০টি বিমানবন্দর উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভিজ্ঞতা আছে। এর মধ্যে মিয়ানমারের মান্দালাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মঙ্গোলিয়ার উলানবাতোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। যাদের সঙ্গে ৩০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে জাপানি এই কোম্পানিটির। মিতসুবিশির বাংলাদেশেও দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি আছে এবং তারা বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়নের কাজেও যুক্ত।

সূত্র আরও জানায়, ঢাকা বিমানবন্দরে বর্তমানে দুটি টার্মিনালে (টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২), যেখানে ১০ লাখ বর্গফুটের মতো জায়গা রয়েছে। নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালের মাধ্যমে যুক্ত হবে আরও ২২ দশমিক ৫ লাখ বর্গফুট জায়গা। নতুন টার্মিনাল নির্মাণে ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে সরকারি কোষাগার থেকে। বাকি অর্থ দিচ্ছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। আর জাপানের মিতসুবিশি, ফুজিতা ও কোরিয়ার স্যামসং একটি কনসোর্টিয়াম হিসেবে নির্মাণকাজটি করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরের বর্তমান যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি হবে। কার্গোর ধারণক্ষমতা দুই লাখ টন থেকে বেড়ে হবে পাঁচ লাখ টনে। এর ফলে একক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরের মাধ্যমে নতুন টার্মিনালটির সব কর্মকা- পরিচালনা সম্ভব হবে।

২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) বৈঠকে থার্ড টার্মিনালের জন্য প্রথমে ১৩ হাজার ৬১০ দশমিক ৪৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে একটি পৃথক আমদানি-রপ্তানি কার্গো হাউস স্থাপন ও নতুন ভিভিআইপি টার্মিনাল প্রকল্প কাজের কিছু অংশ বর্ধিত করায় মোট প্রকল্প ব্যয় বেড়ে ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা হয়।

প্রকল্পের বাড়তি বরাদ্দের প্রস্তাব গত ১০ ডিসেম্বরের একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী চার বছরের মধ্যে এ টার্মিনালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সিপিজি করপোরেশন (প্রাইভেট) লিমিটেড সিঙ্গাপুরের রোহানি বাহারিন তিন তলাবিশিষ্ট তৃতীয় টার্মিনালের নকশা করেছে।

থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে সিভিল এভিয়েশন বিমানবন্দর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করছে। অনেক দেশে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে এটি হয়ে থাকে। জাপানের মিতসুবিশি কোম্পানি তৃতীয় টার্মিনাল কাজের সঙ্গে যুক্ত। তারা একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। এখন আলোচনা হবে। এর পর সিদ্ধান্ত হবে।

সুত্রঃ আমাদের সময়

Leave a Reply