ভ’য়াবহ বিমান দু’র্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৫৭ জন মানুষ

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের বিমান দু’র্ঘটনার আজ দুই বছর।২০১৯ সালের ১১ মার্চে ভ’য়াবহ দু’র্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৫৭ জন মানুষ। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বোয়িং কর্তৃপক্ষের সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত টানা ২ বছরে কোটি কোটি ডলার খরচ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পক্ষ থেকে ভ’য়াবহ এ দুর্ঘ’টনার কারণ হিসেবে বোয়িং কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করা হয়। সেই সঙ্গে ব্যয়বহুল এ ভুলকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় করপোরেট ভুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের আরেকটি একই মডেলের বিমানের দুর্ঘ’টনা হয়। সে ঘটনায়ও প্রাণ হারান ১৮৯ জন। বোয়িং জানায়, দুই বছরে ২ হাজার ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে বোয়িংয়ের। এর মধ্যে ৯০০ ডলার দিতে হয়েছে শুধু ক্ষ’তিপূরণ। কারণ অনেক এয়ারলাইন্স ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের বিমান ব্যবহার করতে পারেননি দীর্ঘসময়। আর এক হাজার ১০০ কোটি ডলার জরিমানা দিতে হয় উৎপাদন খরচ বাবদ, কারণ এ মডেলের বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় ধীরগতি এসেছিল উৎপাদন প্রক্রিয়ায়।

সারাবিশ্বে দু’র্ঘটনার কারণে প্রায় ২ বছর বন্ধ ছিল বোয়িংয়ের বিমান চলাচল, সেই সঙ্গে বন্ধ ছিল বিমানের বিক্রিও। ২০২০ সালে কোভিডের কারণে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকায় বোয়িংয়ের অন্যান্য বিমানের অর্ডার ও বিক্রি কমে যায়। গত বছর অর্ডার বাতিল হয় বোয়িংয়ের অন্তত ৮০০টি বিমানের।

মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলছে, প্রথম দু’র্ঘটনার পর কোনো তদন্ত না হওয়ার কয়েক মাস পরই দ্বিতীয় দু’র্ঘটনা ঘটে। বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত বিমান অলস পড়ে থাকে টানা ২০ মাস। এফএএসহ অন্যান্য বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বোয়িংয়ের এই মডেলের বিমানকে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে ১৫৯টি দেশ।

৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের বিমান চলাচল অনেক দেশে শুরুও করেছে। কিন্তু ৩৫টি দেশের নীতিনির্ধারকরা এখনো ম্যাক্স মডেলের বিমানে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। ৭৩৭ ম্যাক্সের যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের অনুমতি দেয়নি চীন। অথচ, এই মডেলের মোট বিমানের ২০ শতাংশই চলত চীনে।

Leave a Reply