মালয়েশিয়ায় আবারও কন্ডিশনাল মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (সিএমসিও)

দেশব্যাপী কোভিড-১৯ সংক্রমণের অস্থিতিশীল প্রবণতার কারণে মালয়েশিয়ায় আবারও দু’সপ্তাহের জন্য কন্ডিশনাল মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (সিএমসিও) বা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে মালয়েশিয়ায় কন্ডিশনাল মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার ঘোষণা করা হয়েছিল। যা ১ এপ্রিল থেকে শুরু করে ১৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংক্রমণ রোধে শর্তসাপেক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির সেলাঙ্গর, জহুর, পিনেং, কেলান্তান রাজ্য এবং রাজধানী কুয়ালালামপুরে সিএমসিও ঘোষণা করা হয়।

একইসঙ্গে মালয়েশিয়ার সারাওয়াক প্রদেশও ১৩ এপ্রিল থেকে থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত সিএমসিও’র আওতায় থাকবে।

স্থানীয় সময় সোমবার (১২ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি বিন ইয়াকুব কোভিড-১৯-এর নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমলেও সেলাঙ্গর ও কুয়ালালামপুরের বেশিরভাগ এলাকায় এখনো রেড জোন রয়েছে। সেই সঙ্গে এ এলাকাগুলোতে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সিএমসিও বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ে সরকার ঘোষিত অন্যান্য বিধিনিষেধ আগের মতো থাকবে।

একই সময়ে পারলিস, পুত্রাজায়া, কেদাহ, পেরাক, মেলাকা, নেগারি সেম্বিলান, তেরেঙ্গানু, সাবাহ ও লাবুয়ান রাজ্যগুলোতে রিকভারি মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (আরএমসিও) আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে। এছাড়া জনসাধারণের জন্য আন্তঃজেলাগুলোতে ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও আন্তঃরাজ্য ভ্রমণে এখনো আগের মতোই বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে আরএমসিও’র অধীনে রাজ্যগুলোর জন্য আন্তঃরাজ্য ভ্রমণে পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে (মোটাক) নিবন্ধিত ট্যুর এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে পর্যটন কার্যক্রম ব্যতিত আন্তঃরাজ্য ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুমতিক্রমে আন্তঃরাজ্যগুলোতে ভ্রমণ করা যাবে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের কারণে সাবাহ এবং সারাওয়াক ব্যতীত আন্তঃজেলা ভ্রমণের অনুমতি রয়েছে। একই সাথে সেলাঙ্গর এবং কুয়ালালামপুর একই জোনে থাকায় কোনো ধরনের অনুমতিপত্র ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে।

এদিকে, দেশটিতে সোমবার (১২ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ১৭৩ জন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ হাজার ৩৩৩ জন এবং সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫ জন।

Leave a Reply